
রাউজানে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময়, আহত ১২ পুলিশ সদস্য
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজন গ্রেপ্তার; উদ্ধার বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্র
পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১৯ রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য, এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের পর অভিযান চালানো হয়। চক্রটির নেতৃত্বে মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস রয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযানকারী দলের সদস্যরা জানে আলমের বসতঘরের কাছে পৌঁছালে ভেতরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়।
এ ঘটনায় এসআই মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই মো. রবিউল হোসেনসহ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন।
গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে দিলদার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন এবং তাকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে আটক দিলদারের হেফাজত এবং তার দেখানো স্থান থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি ও দুটি গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দিলদারসহ পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে একই কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।